সাকিব আল হাসান নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সাহসী ও সৎ ক্রিকেটারদের একজন।
যেখানে অনেকে অন্যায়ের সামনে নীরব থেকেছে, সেখানে সাকিব নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে — কথায় নয়, কাজে।
ঘরোয়া ক্রিকেটের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো প্রতিবাদ এসেছিল সাকিবের সেই বিখ্যাত “স্টাম্পে লাথি” ঘটনার মাধ্যমে।
অনেকে চুপ করে থেকেছে, কেউ প্রতিবাদ করেনি, কিন্তু সেদিন সাকিব একাই অন্যায়ের মুখে দাঁড়িয়েছিল।তার সেই লাথিই ঘরোয়া লিগের ভিতরে চলা অনিয়মকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে।
আজ ঘরোয়া লিগ লাইভ টেলিকাস্ট হয়, স্বচ্ছতা বেড়েছে — এ সবকিছুই সম্ভব হয়েছে সেই সাহসী লাথির পর থেকেই।
সাকিব চাইলে বোর্ডের সঙ্গে সমঝোতা করে নিজের স্বার্থ দেখতে পারতো।চাইলে ভুল আম্পায়ারিংয়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকতে পারতো।কিন্তু সে কখনো অন্যায়কে সহ্য করেনি, কারও ভয়ও পায়নি।এই কারণেই হয়তো বোর্ডের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছে, নিষেধাজ্ঞাও এসেছে — কিন্তু সে সত্যের পথ থেকে এক ইঞ্চিও সরে যায়নি।
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও অনেক সময় তাকে ব্যবহার করা হয়েছে, তার নাম ও জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগানো হয়েছে।
তবুও সাকিব নিজের সততা ও নীতিবোধ থেকে কখনো বিচ্যুত হয়নি।সে কাউকে তেল মেরে চলে না, কারও অন্যায়ের পাশে দাঁড়ায় না।যা ঠিক, সেটাকেই ঠিক বলে — এটাই তার চরিত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাকিবের অবদান অনন্য।
তার মতো সৎ, সাহসী, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো এবং বিশ্বমানের পারফর্মার আজও দ্বিতীয় কেউ জন্ম নেয়নি।
সাকিব শুধু একজন ক্রিকেটার নন — তিনি একটি যুগ, একটি প্রতীক, একটি বিবেকের নাম।
– ইমরুল কায়েস
সাবেক ওপেনার, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।

Post a Comment