ফিফটি করে নায়ক লিটন, দাপুটে জয় টাইগারদের!

 

এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হংকংকে ৭ উইকেটে হারিয়ে দাপুটে এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। দারুণ এই জয়ের ফলে এশিয়া কাপের এবারের আসরে শুভসূচনা করলো টাইগাররা। ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৪৩ রান তোলে হংকং। ৭ উইকেট এবং ১৪ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌছে যায় টাইগাররা। 


আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে হংকং। আংশি রাথ আউট হন দলের ৭ রানের মাথাতে। ৫ বলে ৪ রান করা হংকংয়ের ওপেনারকে সাজঘরে ফেরান টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদ। এরপর প্রতিরোধ গড়েছেন জিশান আলী এবং বাবর হায়াত। দুজনে এগিয়েছেন ধীরেসুস্থে। তেমন টি-টোয়েন্টিসুলভ ব্যাটিংয়ের দেখা মেলেনি।    


১২ বলে ১৪ রান করা হায়াত দলের ৩০ রানের মাথাতে সাজঘরে ফিরে যান। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে ৩৪ রান তোলে হংকং।  


ক্রিজে টিকে থাকা জিশান আলী এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে যাচ্ছিলেন। চারে নেমে নিজাকাত খানও প্রতিরোধ গড়েছেন। তবে দুজনই এগিয়েছেন ধীরেসুস্থে। ৩৪ বলে ৩০ রান করা জিশান আউট হয়েছেন দলের ৭১ রানের মাথাতে।  



জিশানের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন দলের অধিনায়ক ইয়াসিম মুর্তজা। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের রানের গতি বাড়ান অধিনায়ক মুর্তজা। ১৯ বলে ২৮ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে বিদায় নেন অধিনায়ক। হয়েছেন রান আউট। অধিনায়কের বিদায়ের পর কিছুটা কমেছে হংকংয়ের রানের গতি। ৪০ বলে ৪২ রান করা নিজাকাত খানকে ফেরান রিশাদ হোসেন। পরের বলেই কিঞ্চিত শাহকে ফিরিয়েছেন রিশাদ। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় হংকং।  


বাংলাদেশের হয়ে ২টি করে উইকেট শিকার করেছেন রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব এবং তাসকিন আহমেদ।     


জবাব দিতে নেমে দলকে আগ্রাসী শুরু এনে দেন পারভেজ হোসেন ইমন। তবে বেশিক্ষণ ক্রিজে টেকেননি তিনি। দলের ২৪ রানের মাথাতে ভাঙে ওপেনিং জুটি। ১৪ বলে ১৯ রান করে বিদায় নেন ইমন।    


এরপর অধিনায়ক লিটন দাসের সাথে ক্রিজে জুটি বাঁধেন টিকে থাকা ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তানজিদ অত বেশি সুবিধা করতে পারেননি। ১৮ বলে ১৪ রান করে দলের ৪৭ রানের মাথাতে সাজঘরে ফিরে যান টাইগার ওপেনার। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৫১ রান তোলে বাংলাদেশ।  



দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ক্রিজে জুটি বাঁধেন তাওহিদ হৃদয় এবং লিটন দাস। শুরুতে দেখেশুনে খেলেছেন দুজন। সাবলীল ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন হৃদয়-লিটন। দলের রানের চাকা সচল রেখেছেন। অযথা তেড়েফুঁড়ে মারতে গিয়ে দলের বিপদ ডেকে আনেননি। ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে ছুটেছেন লক্ষ্যের দিকে।    


পরিস্থিতি বুঝে রানের গতি বাড়িয়েছেন লিটন এবং হৃদয়। কার্যকরী ব্যাটিংয়ে তুলেছেন রান। সুযোগ বুঝে দলের চাহিদা মিটিয়ে খেলেছেন বড় শটও। ধীরে ধীরে জয়ের খুব কাছে চলে যেতে থাকে বাংলাদেশ। কৌশলী ব্যাটিংয়ে মুন্সিয়ানা দেখিয়ে ফিফটিও ছুঁয়েছেন লিটন। একদম শেষ দিকে গিয়ে ৩৯ বলে ৫৯ রান করে সাজঘরে ফিরে যান অধিনায়ক। 



১৪ বল এবং ৭ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌছে যায় বাংলাদেশ। ১ বলে ০ রান করে টিকে ছিলেন জাকের আলী অনিক। ৩৬ বলে ৩৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন তাওহিদ হৃদয়। 


হংকংয়ের হয়ে ২ উইকেট নেন আতিক ইকবাল। আয়ুশ শুকলা নেন ১ উইকেট। 


Post a Comment

Previous Post Next Post