১৮ বছরেও ট্রফি না পেয়ে ‘ফ্লপ কিং’ তকমা—শেষমেশ কোহলিও কি মেসির মতো কান্নায় ভেঙে পড়লেন?

 




ক্লাব ফুটবলে সম্ভাব্য সবকিছুই জিতে নিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা, চ্যাম্পিয়নস লিগ, ব্যালন ডি’অর- কী ছিল না তার ঝুলিতে? জাতীয় দলের হয়ে অলিম্পিক, কোপা আমেরিকা জিতেছিলেন, শুধু ছিল না একটা বিশ্বকাপ। তবে সেই অপূর্ণতাও ঘুচে গেছে কাতারে ২০২২ বিশ্বকাপে, মরুর বুকে শিরোপা উঁচিয়ে ধরে সব আক্ষেপ মিটিয়েছেন আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর।


মেসির ঠিক বিপরীত অভিজ্ঞতা হয়েছিল বিরাট কোহলির। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শুরুতে ভারতের জার্সিতে জিতেছেন ওয়ানডে বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি- এক বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ছাড়া আইসিসির বৈশ্বিক সব শিরোপাই তার জেতা হয়ে গিয়েছিল। শুধু জিততে পারছিলেন না একটি আইপিএল শিরোপা। অদ্ভুত এক ব্যর্থতার চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছিলেন ১৮ বছর ধরে।




রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জার্সিতে একটা আইপিএল শিরোপা জয়ের জন্য মাথা কুটে মরছিলেন কোহলি। সেই অধরা শিরোপাই ধরা আইপিএলের ১৮তম আসরে। পাঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে বেঙ্গালুরুর জয় নিশ্চিত হতেই কেঁদে ফেলেন কোহলি। তারপর শুরু করলেন খ্যাপাটে উদযাপন। তিন বছর আগে মরুর বুকে ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে থাকা মেসিও তো এভাবে আনন্দে কেঁদেছিলেন।



আইপিএলে সর্বাধিক রান (৮৬৬১), এক আসরে সর্বাধিকবার পাঁচশর বেশি রান (৮ বার), তৃতীয় সর্বাধিক আইপিএল ক্যাপ (২৬৭), ১০ বার আইপিএলের  প্লে-অফে খেলা, ৪টি ফাইনাল খেলা, সর্বাধিক ৮টি সেঞ্চুরি, সর্বাধিক ৬৩ হাফ সেঞ্চুরি, এক মৌসুমে সর্বোচ্চ রান (২০১৬ সালে ৯৭৩) এবং সর্বাধিক বাউন্ডারি (৭৭১) – কোহলিকে আইপিএলে এমনিতেই অমর করে তুলেছিল। এবারের মৌসুমেও ফাইনালে ৪৩ রান করার পর তার রানের সংখ্যা ৬৫৭, যা তৃতীয় সর্বোচ্চ।



কোহলির সবচেয়ে অসাধারণ দিকগুলির একটি হলো তার বিবর্তন। ২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম আসর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে প্রাসঙ্গিক ছিলেন। এই সময়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট অনেক বদলে গেছে, কোহলিও নিজেকে বদলে ফেলেছেন বারবার। সমালোচনা গ্রহণ করে তিনি নিজেকে বিকশিত করেছেন, বাড়িয়েছেন স্ট্রাইকরেট। তাই খেলার গতি পরিবর্তনের সঙ্গে তিনি হারিয়ে যাননি। থেকে গেছেন ‘কিং কোহলি’ হয়েই।

Post a Comment

Previous Post Next Post