বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম টি-২০তে ম্যাচসেরা হলেন যিনি, তাকেই নিয়ে এখন আলোচনা তুঙ্গে!

 

বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম টি-২০তে ম্যাচসেরা পুরস্কার উঠলো যার হাতে


মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত ব্যাটিং পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা হয়েছেন তরুণ ওপেনার পারভেজ হোসেন ঈমন। তার ৫৬ রানের ঝকঝকে ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ ৭ উইকেটের সহজ জয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।


মাত্র ৩৯ বলের ইনিংসে ৫টি বিশাল ছক্কা ও ৩টি চারের সাহায্যে ঈমন যখন ব্যাট করছিলেন, তখনই স্পষ্ট হয়েছিল—এই ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার মনোভাবেই তিনি ব্যাট হাতে নেমেছেন। চাপের মুখে দুই উইকেট পড়ার পর ব্যাট হাতে দৃঢ়তা দেখিয়ে দলকে স্থিরতা দেন এবং নিজেই ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছাড়েন অপরাজিত অবস্থায়।


লক্ষ্য ছিল ছোট, কিন্তু শুরুটা ছিল কঠিন


পাকিস্তানের দেওয়া ১১১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারে তানজিদ হাসান মাত্র ১ রান করে আউট হয়ে গেলে বাংলাদেশ পড়ে কিছুটা চাপে। এর কিছুক্ষণ পর অধিনায়ক লিটন দাসও বিদায় নেন মাত্র ১ রানে। দলীয় স্কোর তখন মাত্র ৭। এমন অবস্থায় মাঠে নামেন ঈমন এবং তৌহিদ হৃদয়। দুজনে মিলে গড়ে তোলেন ৭৩ রানের দুর্দান্ত জুটি।


তবে মূল চমক ছিল পারভেজ হোসেন ঈমনের ব্যাটিং। আগ্রাসী মনোভাব বজায় রেখে শট খেললেও তিনি কখনোই ঝুঁকি নেননি। প্রতিটি শটেই ছিল আত্মবিশ্বাস ও পরিপক্বতা। বিশেষ করে স্পিনারদের বিরুদ্ধে তার ব্যাটিং ছিল চোখ ধাঁধানো।


ঈমনের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে নতুন মাইলফলক


২০২২ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হলেও পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা ছিল অনুপস্থিত। কিন্তু এবারের সিরিজে নিজের জাত চিনিয়েছেন পারভেজ হোসেন ঈমন। তার ব্যাটিং দেখে বোঝাই যাচ্ছে, তিনি কেবল শুরু করছেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলে একজন নির্ভরযোগ্য ওপেনার হয়ে উঠার সম্ভাবনা রাখেন।


এই ইনিংসটি ছিল তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে অন্যতম সেরা ইনিংস। তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৪৩.৫৮ এবং ৩৯ বলের ইনিংসে ৫টি ছক্কা মারেন, যা তার আগ্রাসী খেলার স্বাক্ষর বহন করে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস গড়া ও জয় নিশ্চিত করাই তাকে ম্যাচসেরা নির্বাচিত করে তোলে।


পাকিস্তানের বিপক্ষে শুরুটা দুর্দান্ত বাংলাদেশ দলের


পাকিস্তান ব্যাট হাতে শুরু থেকেই চাপে ছিল। তাসকিন আহমেদের ৩ উইকেট, মুস্তাফিজুরের কৃপণ বোলিং (৪ ওভারে মাত্র ৬ রান ও ২ উইকেট), এবং ফিল্ডারদের সরাসরি থ্রোয়ে তিনটি রান আউট—সব মিলিয়ে সফরকারীদের ১১০ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। এরপর ব্যাটিংয়ে ঈমন-হৃদয়ের দায়িত্বশীল জুটিতে সহজেই জয় নিশ্চিত হয়।


ম্যাচসারাংশ:


পাকিস্তান: ১১০ অলআউট (১৯.৩ ওভার)


ফখর জামান ৪৪, আব্বাস আফ্রিদি ২২


তাসকিন আহমেদ ৩/২২, মুস্তাফিজুর রহমান ২/৬


বাংলাদেশ: ১১২/৩ (১৫.৩ ওভার)


পারভেজ হোসেন ঈমন ৫৬* (৩৯), তৌহিদ হৃদয় ৩৬ (৩৭)


সালমান মিরজা ২/২৩


ফলাফল: বাংলাদেশ জয়ী ৭ উইকেটে (২৭ বল হাতে রেখে)


ম্যাচসেরা: পারভেজ হোসেন ঈমন


ভবিষ্যতের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এই ইনিংস


পারভেজ হোসেন ঈমনের ব্যাটিং যেমন দলকে জয়ের পথে নিয়ে গেছে, তেমনি তার ইনিংস ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। টি-টোয়েন্টিতে ওপেনিং পজিশনে একজন স্ট্রাইকিং ব্যাটসম্যান সব সময় গুরুত্বপূর্ণ, আর ঈমন সেই দায়িত্বে নিজেকে প্রমাণ করতে শুরু করেছেন।


পরবর্তী ম্যাচ


এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২২ জুলাই, একই ভেন্যুতে। পাকিস্তানের জন্য এটি এখন বাঁচা-মরার লড়াই, অন্যদিকে বাংলাদেশ চাইবে সিরিজ আগেভাগেই নিশ্চিত করতে।

Post a Comment

Previous Post Next Post