চার বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা বলেছিলেন—"এই তরুণরাই একদিন দেশের ক্রিকেটের চালচিত্র বদলে দেবে, শুধু সময় ও বিশ্বাস দিতে হবে।" আজ মিরপুরের মাঠে দাঁড়িয়ে যেন সেই কথারই বাস্তব রূপ দেখলো পুরো বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯ বছর পর টি-টোয়েন্টিতে জয়—সেটাও এমন দাপুটে পারফরম্যান্সে—মাশরাফীর সেই কথাকেই যেন হুবহু সত্যি করে তুলল।
প্রথমে দুর্দান্ত বোলিং, এরপর স্বাচ্ছন্দ্যে রান তাড়া—দুই বিভাগেই শাসন করেছে বাংলাদেশ। তাসকিনের আগুন ঝরানো স্পেল, মোস্তাফিজের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ, শুরুর দোটানায় ব্যাটিং বিপর্যয় সামলে পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহীদ হৃদয়ের দৃঢ়তা—সব কিছু মিলিয়ে যেন নতুন এক বাংলাদেশকে দেখল মিরপুর। জয়টা শুধু জয় নয়, এটা একটি ঘোষণাও—বাংলাদেশ ক্রিকেট এগিয়ে যাচ্ছে, আর সেই অগ্রযাত্রার পতাকা উঁচিয়ে ধরেছে মাশরাফীর স্বপ্নের সেই তরুণরাই।
মাশরাফী জানতেন, আজ যারা জয়ের নায়ক, তারা একদিন ঠিকই নিজেদের প্রমাণ করবে। তিনি বিশ্বাস রেখেছিলেন তাসকিন-মোস্তাফিজদের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিতে, হৃদয়-ইমনদের বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনায়। আজ সেই বিশ্বাসেরই জয় হলো। মিরপুরে আজ শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, মাশরাফীর দূরদর্শিতারও এক নিখুঁত উদাহরণ তৈরি হলো।
এ জয় যেন ভবিষ্যতের আরও বড় সাফল্যের আগাম বার্তা। তরুণদের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের সামনে রয়েছে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ—যার ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার মতো দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতারা।

Post a Comment