২০২৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ব্যর্থতা যেন পিছু ছাড়ছে না বাংলাদেশ দলের। আর সেই ব্যর্থতার পেছনে কে দায়ী—এ নিয়ে বিতর্ক যেন আরও গভীর হচ্ছে।
সম্প্রতি একটি গোপনীয় তদন্ত রিপোর্ট ‘ফাঁস’ হওয়ার দাবি ঘিরে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে চলছে তোলপাড়। বিশেষ করে, এই প্রতিবেদনে তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে এবং জালাল ইউনুস মধ্যে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ ও হাতুরুকে সরাতে তামিমের মাস্টারপ্ল্যান, নাসুমের চরকান্ড দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত উঠে এসেছে।
কী আছে তদন্ত রিপোর্টে?
অপ্রকাশিত ওই তথাকথিত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়—
তামিম ইকবাল ফিটনেস ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরও তাকে দলে না নেওয়া নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছিল;
সাকিব আল হাসানের “আলাদা অবস্থান” ও নেতৃত্ব নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল;
কোচ হাথুরুসিংহের কৌশল ও ড্রেসিংরুম পরিচালনার ধরন নিয়ে একাধিক সিনিয়র খেলোয়াড়ের আপত্তি ছিল;
নির্বাচক প্যানেলের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতা ও ‘রাজনৈতিক চাপ’ কাজ করেছিল বলে দাবি করা হয়।
কী বলছে বোর্ড?
বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। তবে অভ্যন্তরীণভাবে একটি "পারফরম্যান্স রিভিউ" হয়েছে বলে জানায় বোর্ডের একটি সূত্র। নতুন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পুনঃমূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছেন।
বিতর্ক বনাম বাস্তবতা
ক্রিকেট অঙ্গনে এই ‘রিপোর্ট ফাঁস’ এবং সেটিকে ঘিরে আলোচিত ব্যক্তিদের দায়ী করা—নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে বাস্তবতা হলো, পারফরম্যান্স, ফিটনেস এবং নেতৃত্ব—এই তিন বিষয়ের ভারসাম্য না থাকলেই বড় টুর্নামেন্টে দল ব্যর্থ হতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, নতুন বিসিবি সভাপতি বুলবুল কীভাবে অতীতের এই বিতর্ক ছাপিয়ে ভবিষ্যতের জন্য একটি পরিস্কার নীতি ও দিকনির্দেশনা প্রতিষ্ঠা করেন।

Post a Comment