বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রশাসনে আসছে বড় রদবদল। অনেকদিন ধরেই সমালোচনার মুখে থাকা সাবেক অধিনায়ক আকরাম খানকে সরিয়ে খালেদ মাসুদ পাইলটকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নতুন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
কেন সরানো হলো আকরাম খানকে?
বিভিন্ন সময় বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও ক্রিকেটারদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় আকরাম খানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। নির্বাচক কমিটি, দল নির্বাচনে প্রভাব, ও তরুণ ক্রিকেটারদের উপেক্ষার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।
তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে– স্বজনপ্রীতি ও অস্বচ্ছতা।
বোর্ডের এক অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে,
নতুন সভাপতি কারও প্রতি রেহাই রাখছেন না। যাদের পারফর্মেন্স ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ, তাদেরকে দায়িত্বে রাখা হবে না।"
খালেদ মাসুদ পাইলট: নতুন বিশ্বাসের নাম
সাবেক অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক খালেদ মাসুদ পাইলট দেশের ক্রিকেটে পরিচিত একজন সৎ, বিচক্ষণ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ হিসেবে।
২০০০ সালের টেস্ট অভিষেকে তার নেতৃত্বেই মাঠে নামে বাংলাদেশ। অবসর পরবর্তী সময়েও তিনি ক্রিকেটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত রয়েছেন, বিশেষ করে ঘরোয়া ক্রিকেট এবং তরুণদের প্রশিক্ষণে।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তাকে ক্রিকেট অপারেশনস অথবা টিম ম্যানেজমেন্ট ইউনিটে বড় দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
নতুন বোর্ড, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
বিসিবির নতুন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আগেই ঘোষণা দিয়েছেন,
"সাবেক অভিজ্ঞ ও সৎ ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই। ক্রিকেটীয় সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে হবে।"
এই ঘোষণার বাস্তব রূপ হিসেবে ইতোমধ্যেই বোর্ডে আসতে শুরু করেছেন কিছু নতুন মুখ, যাদের মধ্যে খালেদ মাসুদ পাইলট হলেন সবার প্রথম সারিতে।
সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া
ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক মাধ্যমে ক্রিকেটপ্রেমীরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন:
পাইলট ক্রিকেট বোঝেন, সে মানুষটাও ক্লাসি। তার মতো একজন দরকার ছিল অনেক আগে।"
বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন পথচলায় অভিজ্ঞদের সম্মান দেওয়া এবং পুরনো বিতর্কিত অধ্যায়ের অবসান আনাই এখন মূল লক্ষ্য। পাইলটের মতো ব্যক্তিত্বের আগমন সেই ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তাই দিচ্ছে।
Post a Comment