যু*দ্ধ ট্যাং*ক নিয়ে বাংলাদেশ সী*মা*ন্তে ব্যা*প*ক ম*হ*ড়া কী উদ্দেশ্য ভারতের?

 



ভারতীয় সেনাবাহিনীর ত্রিশক্তি কোর্পস, যা মূলত সিককিম ও শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত, সম্প্রতি সীমান্ত অঞ্চলে তাদের তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। এই তৎপরতার অংশ হিসেবে সেখানে এক বিশাল সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অত্যাধুনিক যুদ্ধ ট্যাংক এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। হঠাৎ এই মহড়ার পেছনে ভারত কী উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে? বিস্তারিত জানাচ্ছেন ইশতিয়াক হোসেন।


সীমান্ত অঞ্চলে সামরিক মহড়া সাধারণত এক দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে একটি দেশ তার সামরিক সক্ষমতাকে পর্যালোচনা করে এবং আগামী যেকোনো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেয়। বিশ্বের নানা দেশে এমন মহড়া চলে, আর এবার ভারতও তাদের সামরিক শক্তি জানান দিতে সীমান্ত এলাকায় এক মাসব্যাপী ‘লাইট ফায়ার’ মহড়া পরিচালনা করেছে।



ভারতীয় সেনাবাহিনীর ত্রিশক্তি কোর্পস, যা সিককিম ও শিলিগুড়ি করিডরের সুরক্ষা নিশ্চিত করে, এই মহড়ার মাধ্যমে তাদের যুদ্ধ প্রস্তুতি বৃদ্ধি করেছে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই মহড়ায় অত্যাধুনিক টি৯০ ট্যাংকসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম *দ্য ইকোনমিক টাইমস* এর এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, এই মহড়ার উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন অপারেশনাল পরিস্থিতিতে আর্মড যুদ্ধকৌশল পরীক্ষা করা।


এছাড়া, পাহাড়ি অঞ্চলে যুদ্ধ সক্ষমতা যাচাই করার পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উন্নত প্রযুক্তি একীভূত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতের টি৯০ ট্যাংকটি সেনাবাহিনীর সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধ ট্যাংক, যা উন্নত ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম, গতিশীলতা এবং অগ্রগতি প্রযুক্তি নিয়ে সজ্জিত। এটি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে শত্রু বাহিনীর ট্যাংক অথবা আর্মড লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম এবং রাতের যুদ্ধে আরও কার্যকরী।


তবে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই সাম্প্রতিক মহড়া বাংলাদেশের জন্য কিছুটা চিন্তার কারণ হতে পারে, তবে সরাসরি বাংলাদেশের জন্য কোনো বিপদ সৃষ্টি করবে না বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ভারতের কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা উচিত নয়।



এটি শুধু ভারতের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি অংশ, এবং প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এখনই কোনো আশঙ্কার কারণ নেই।


Post a Comment

Previous Post Next Post