৬ বছর আগের ঘটনাকে ধোনি বললেন, ‘বড় ভুল ছিল’

 


'ক্যাপ্টেন কুল' নামে ডাকা হয় মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। তবে শান্ত মাথার ধোনিও অনেকবার হয়ে উঠেছিলেন অশান্ত। বিশেষ করে ২০১৯ সালে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে একটি ম্যাচে ক্ষেপে গিয়ে মাঠে প্রবেশ করতেও দেখা গিয়েছিল ধোনিকে। সেটা ভুল ছিল বলে স্বীকার করে নিয়েছেন চেন্নাই সুপার কিংসের সাবেক এই অধিনায়ক।


৬ বছর আগের সেই ম্যাচে বেন স্টোকসের করা ওই ওভারের তৃতীয় বলে আউট হয়ে ফেরেন ধোনি (৫৮)। তখন শেষ তিন বলে চেন্নাইয়ের সমীকরণ দাঁড়ায় ৮ রান।মিচেল স্যান্টনারকে করা স্টোকসের চতুর্থ ডেলিভারিটি ছিল ফুল টস। প্রথমে আম্পায়ার নো বলের সিগন্যাল দিলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন স্কয়ার লেগ আম্পায়ার। ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।


এরপর মাঠে থাকা দুই ব্যাটার আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়ান। এরপর উত্তেজনায় মাঠে ঢুকে পড়েন ধোনিও। দর্শক থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষ কেউই ধোনিকে এমন অগ্নিমূর্তিতে দেখেননি আগে। তাই অবাক হয়েছিলেন সবাই। মাঠে আম্পায়ারদের সঙ্গে বেশ কয়েক মিনিট যুক্তি-তর্ক চলে সেই সময়ের চেন্নাই অধিনায়কের। শেষ পর্যন্ত আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই অটুট থাকে। বলটি লিগ্যাল ঘোষণা করা হয়।


২০২৫ আইপিএলের আগে সম্প্রতি মাস্টারকার্ডের একটি অনুষ্ঠানে ধোনির ক্যারিয়ারের বিতর্কিত সেই দিনের ঘটনা স্মরণ করেছেন। সঞ্চালক ধোনিকে প্রশ্ন করেছিলেন কখনো কি মেজাজ হারিয়েছেন? ধোনি উত্তর দেন, 'অনেকবার, অনেকবার হয়েছে।'


এরপর তিনি যোগ করেন, 'এটা ঘটেছিল আইপিএলের একটি ম্যাচে, আমি মাঠের ভেতর ঢুকে পড়েছিলাম। তো সেটা আমার বড় একটি ভুল ছিল। এর বাইরেও কিছু ঘটনা ছিল। আমরা এমন একটা খেলা খেলি, যেখানে অনেক কিছু জড়িত থাকে। আপনাকে প্রতিটি ম্যাচে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নামতে হয়। আপনাকে অনেক কিছু সামলাতে হয়।'


অবশ্য শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচে শেষ বলে ছক্কা মেরে চেন্নাইকে জিতিয়েছিলেন স্যান্টনার। আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য ধোনির ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছিল। অধিনায়ক হিসেবে ধোনি ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও জিতেছেন। ধোনি এখন বুঝতে পারেন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় আবেগকে কখনই প্রশ্রয় দেয়া উচিত নয়।




তিনি বলেন,, 'এ কারণেই আমি বলি, যখন আপনি কিছু নিয়ে খুশি নন, কোন কিছু নিয়ে রেগে যান বা হতাশ হয়ে পড়েন, তখন চুপ থাকাই ভালো। কিছুক্ষণের জন্য এর থেকে দূরে থাকুন, গভীর শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করুন। এটা অনেকটা চাপ সামলানোর মতোই। আপনি যদি ফলাফলের ভাবনা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারেন, তাহলে এটা সাহায্য করে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে আপনার আবেগের কখনো প্রভাব ফেলা উচিত নয়।'


Post a Comment

Previous Post Next Post