শেখ হাসিনার কাছ থেকে দিল্লির কি শিক্ষা নেওয়া উচিত ?



বিষয়টা কাকতলীয়ই বটে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা থেকে উড়াল দিতে বাধ্য হওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২০২৯ সালের পরও অবশ্যম্ভাবীভাবে বহাল থাকার কথা বলছিলেন। শেখ হাসিনা ঠিক যেভাবে তাঁর অপরিহার্যতার কথা বিশ্বাস করতেন, ঠিক সেভাবেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ডান হাত নিজেকে তো বটেই, সম্ভবত তাঁর নেতাকেও এটা বিশ্বাস করাতে চেয়েছেন যে মোদি হাল ধরে না থাকলে ভারত ধ্বংস হয়ে যাবে।


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেমন নিজের অপরিহার্যতা বিশ্বাস করতেন, তেমনি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২৯ সালের পরও ক্ষমতায় থাকবেন। কিন্তু শেখ হাসিনার ব্যর্থতা থেকে কি দিল্লি শিক্ষা নেবে?

শেখ হাসিনা এমন এক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যেখানে নির্বাচনপ্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষীণ ছিল। বিরোধী দলগুলো নির্বাচনপ্রক্রিয়া বর্জন করে এবং সুষ্ঠু ভোটের কোনো প্রচেষ্টা নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতা কি ভারতের ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্কবার্তা হতে পারে?

অমিত শাহর দাবি, মোদি ছাড়া ভারত অচল, যেন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। কিন্তু ভারতের জনগণ কি এই পথ মেনে নেবে? মোদি সরকারের এক দশকের শাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—এই শাসনব্যবস্থা কি ভারতকে আরও দুর্নীতিপ্রবণ ও বৈষম্যপূর্ণ করে তুলেছে?

শেখ হাসিনার শাসনের পরিণতি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, একনায়কতন্ত্রের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না। মোদি সরকার যদি গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করে, তবে তা ভারতের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি, নয়তো দিল্লি একই পরিণতির দিকে ধাবিত হবে।

এই সময়ে, ভারতের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো কি তাদের শক্তি পুনরুদ্ধার করবে এবং মোদি সরকারের নিরাময় না হওয়া সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে? শেখ হাসিনার শাসনের পরিণতি কি দিল্লিকে সাবধান করবে, নাকি একই পথেই এগিয়ে যাবে ভারত?

Post a Comment

Previous Post Next Post