বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের চাপে রীতিমতো নাভিশ্বাস অবস্থা এখন আমেরিকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’র (ডিওজিই) প্রধান হিসেবে মাস্ক ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমন আরও অনেক সিদ্ধান্ত যে নিতে চলেছেন তার-ও ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। এবার নিজের ইমেইল ফাঁস হয়েছে, এমন খবরে আলোচনায় উঠে এলেন ইলন মাস্ক। চলুন ঘটনার বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
সম্প্রতি নিজের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ পোস্ট করে আরও একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ইলন মাস্ক। তাঁর অদ্ভুত নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার থেকে আমেরিকার ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত কর্মীদেরকে প্রতি সপ্তাহে ইমেইল করে জানাতে হবে তারা পুরো সপ্তাহে কী কী কাজ করেছেন। এর ব্যত্যয় হলে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে থাকবেন কর্মীরা।
এই সিদ্ধান্তটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ অনুসারে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মাস্ক বলেন, ফেডারেল সরকারের সকল কর্মীদেরকে অচিরেই একটি ইমেইল বার্তা প্রেরণ করা হবে। উক্ত ইমেইলে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হবে, তারা গত সপ্তাহে কী কী কাজ করেছেন। উক্ত ইমেইলের জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বিষয়টিকে নির্দিষ্ট কর্মীর পদত্যাগ হিসেবে গণ্য করা হবে!
এক্স প্ল্যাটফর্মে মাস্ক প্রায়শই ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শেয়ার করে থাকেন। তবে গত শনিবার ফেডারেল সরকারের কর্মীদেরকে যে মেইলটি পাঠানো হয়েছে সেটি আমেরিকা সরকারের অফিস অব পারসোনাল ম্যানেজমেন্টের (ওপিএম) তরফ থেকেই প্রেরিত বলে নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি। অর্থাৎ, এই মেইলটি ভুয়া নয়, আসল।
এ ধরণের গণহারে ইমেইল প্রেরণের ক্ষেত্রে সাধারণত যেমনটা হয়ে থাকে এবারও তা-ই হয়েছে- ফাঁস হয়েছে ইমেইল অ্যাড্রেসটি। আর সাথে সাথেই বিষয়টি নিয়ে উপহাসের (ট্রল) বন্যায় ভেসে গেছে ইন্টারনেট। মজার মজার সব রেসপন্সও পাঠাতে শুরু করেছেন আমেরিকান নেটিজেনরা।
প্রশ্ন হচ্ছে, ইলন মাস্ক নিজে কি উপহাসে ভরা এই মেইলগুলো পড়বেন? সেটা অবশ্য নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে মাস্কের পড়া, না পড়ার উপর ট্রলারদের ট্রল করার মাত্রা নির্ভর করছে না। আপাতত তারা বরং মনের আনন্দে ইলন মাস্ককে ট্রল করতে পেরেই খুশি। তবে মাস্কের ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সির জন্য বিষয়টি যে বিব্রতকর তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ম্যাশেবল জানিয়েছে যে, তাঁরা এক্স প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা ইমেইল অ্যাড্রেসটিতে মেইল পাঠিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো উত্তর পায়নি। তবে মেইলটি ফেরতও আসেনি। এর অর্থ হচ্ছে, ইমেইল অ্যাড্রেসটি ভুয়া নয়।
তথ্যসূত্র: ম্যাশেবল

Post a Comment