হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ হলো পাকিস্তান শাহিন ও বাংলাদেশের ম্যাচ!


ডারউইনে শুরু হলো টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। ২২৮ রানের ভয়ঙ্কর লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নুরুল হাসান সোহানের দল অলআউট হলো মাত্র ১৪৮ রানে, তাও ১৯ বল হাতে রেখেই। পাকিস্তান শাহিনসের বিপক্ষে এই হার ৭৯ রানের, যা শুরুতেই দলের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা হয়ে এলো।


ম্যাচের প্রথম বল থেকেই যেন বিপদ ডেকে আনলেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ। বোল্ড হয়ে ফিরে যান কোনো রান না করেই। তবে সেই ধাক্কা সামলান দ্বিতীয় উইকেটে নামা জিসান আলম ও সাইফ হাসান। দুজন মিলে মাত্র ৩৮ বলে ৮৬ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়ে ফেলে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লে শেষ হয় ৭৪ রানে—যা জয়ের আশা জাগিয়ে দিয়েছিল।


জিসান ১৭ বলে ৩৩ রান করে ফিরলেও সাইফ ছিলেন আরও আক্রমণাত্মক—৫ চার ও ৩ ছক্কায় মাত্র ৩২ বলে করেন ৫৭ রান। কিন্তু তিনি আউট হতেই ভেঙে পড়ে ব্যাটিং লাইনআপ। অধিনায়ক সোহান কিছুটা চেষ্টা করলেও (১৬ বলে ২২) বাকি ব্যাটাররা হতাশ করেন। শেষ দিকে মাত্র ৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫০-এর আগেই গুটিয়ে যায় দল।


পাকিস্তান শাহিনসের পক্ষে বল হাতে ফয়সাল আকরাম ও সাদ মাসুদ শিকার করেন ৩টি করে উইকেট।


এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ঝড় তোলেন পাকিস্তানের শীর্ষ তিন ব্যাটার—খাওয়াজা নাফে, ইয়াসির খান ও সৈয়দ আব্দুল সামাদ। নাফে ৩১ বলে ৬১ রান করেন, ইয়াসির ৪০ বলে ৬২ এবং সামাদ অপরাজিত থাকেন ২৭ বলে ৫৬ রানে। পাওয়ার প্লেতে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৬৯ রান, যা দশ ওভার শেষে হয়ে দাঁড়ায় শতরান। উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পরও রানের গতি থামেনি, শেষ পর্যন্ত তারা দাঁড় করায় ২২৭ রানের পাহাড়।


বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে কৃপণ ছিলেন হাসান মাহমুদ, যিনি ৪ ওভারে খরচ করেন ৩৪ রান। বাকিদের খরচ অবশ্য ছিল চোখ কপালে তোলার মতো—রিপন ৪৫, রকিবুল ৪৩, মৃত্যুঞ্জয় ৩৯, মাহফুজুর রাব্বি ৩৯ এবং সাইফ হাসান মাত্র ১ ওভারে ২৬ রান দেন।


প্রথম ম্যাচেই এই বড় হার বাংলাদেশ ‘এ’ দলের জন্য সিরিজে বড় চাপ তৈরি করে দিল। এখন ঘুরে দাঁড়াতে হলে পরের ম্যাচেই জয়ের বিকল্প নেই।

Post a Comment

Previous Post Next Post