হলো না, শ্রীলঙ্কার মাটিতে বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজ জেতাটা এবারেও হলো না। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার কাছে ৯৯ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। দাপুটে জয়ের ফলে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিয়েছে লঙ্কানরা।
ক্যান্ডির পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নামে শ্রীলঙ্কা। আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেন লঙ্কান ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা। তবে আরেক ওপেনার নিশান মাদুশকা সুবিধা করতে পারেননি। দলের ১৩ রানের মাথায় ৬ বলে ১ রান করে বিদায় নেন মাদুশকা। তাকে ফেরান তানজিম হাসান সাকিব। এরপর নিসাঙ্কার সাথে জুটি বাঁধেন কুশল মেন্ডিস।
দারুণ কার্যকরী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন নিসাঙ্কা এবং কুশল। ভালো খেলতে থাকা নিসাঙ্কা ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৪৭ বলে ৩৫ রান করে দলের ৬৯ রানের মাথায় থামেন তিনি। নিসাঙ্কাকে ফিরিয়েছেন তানভীর ইসলাম।
এক প্রান্ত আগলে রেখে ছুটছিলেন কুশল মেন্ডিস। চারে নামা কামিন্দু মেন্ডিস সুবিধা করতে পারেননি। ২০ বলে ১৬ রান করা কামিন্দুকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ।
এরপর ক্রিজে জুটি বাঁধেন চারিথ আসালাঙ্কা এবং কুশল মেন্ডিস। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ক্রিজে জমে যান দুজন। তাদের কার্যকরী ব্যাটিংয়ে ছুটেছে শ্রীলঙ্কার ইনিংস। সময়ের সাথে সাথে রানের গতি বাড়িয়েছেন কুশল। তুলে নেন ফিফটি। ফিফটির পরেও চলেছে কুশলের তাণ্ডব। ছুটেছেন সেঞ্চুরির দিকে।
আরেক প্রান্তে আসালাঙ্কা হাঁকান ফিফটি। ফিফটির পরেই থামেন লঙ্কান অধিনায়ক। ৬৮ বলে ৫৮ রান করে বিদায় নিয়েছেন আসালাঙ্কা। তাকে ফিরিয়ে ১২৪ রানের জুটি ভাঙেন তাসকিন আহমেদ। আরেক প্রান্তে কুশল সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ফেলেন। সেঞ্চুরির পর দলের ২৫৫ রানের মাথায় আউট হয়েছেন কুশল মেন্ডিস। ১১৪ বলে ১২৪ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন তিনি। কুশলকে ফেরান শামীম হোসেন পাটোয়ারী।
কুশলের আগে হিট উইকেট হন জানিথ লিয়ানাগে। ১৭ বলে ১২ রান করা লিয়ানাগে ফেরেন মিরাজের বলে। বাকি সময় লড়াই চালান ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। ১৪ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। এছাড়া ৮ বলে ১০ রান করে টিকে ছিলেন দুশমন্থ চামিরা।
বাংলাদেশের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। ১টি করে উইকেট তোলেন তানভীর ইসলাম, শামীম হোসেন পাটোয়ারী এবং তানজিম হাসান সাকিব।
জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশকে আগ্রাসী শুরু এনে দেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবং পারভেজ হোসেন ইমন। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালোই করেন তানজিদ। তবে ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। দলের ১৯ রানের মাথাতে ভাঙে ওপেনিং জুটি। ১৩ বলে ১৭ রান করে বিদায় নেন তানজিদ। তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত সুবিধা করতে পারেননি। ৩ বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন শান্ত। ২০ রানের মধ্যে হাওয়া ২ উইকেট।
এরপর ইমনের সাথে জুটি বাঁধেন তাওহিদ হৃদয়। ইমন শুরুতে মারমুখি হলেও ধীরে ধীরে কিছুটা খোলসবন্দী হয়ে যান। দলীয় ৬২ রানের মাথাতে আউট হয়েছেন ৪৪ বলে ২৮ রান করা ইমন। এরপর ক্রিজে এসে কিছু বাউন্ডারি হাঁকান মেহেদী হাসান মিরাজ। ৪ চারের সাথে ১ ছক্কায় ২৫ বলে ২৮ রানের ক্যামিও খেলেন অধিনায়ক। বিদায় নিয়েছেন দলের ১০৫ রানের মাথাতে।
হৃদয় এগিয়েছেন দেখেশুনে। স্ট্রাইক রোটেট করে বাড়িয়েছেন রান। তবে দলের চাহিদা মেটাতে পারেননি সেভাবে। ফিফটি হাঁকিয়েই থেমেছেন হৃদয়। ৭৮ বলে ৫১ রান করে বিদায় নেন হৃদয়। মাঝে ১৮ বলে ১২ রান করে আউট হয়েছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী।
শেষ দিকে দলের হার প্রায় নিশ্চিত হয়েই যায়। জাকের আলী অনিকের ৩৫ বলে ২৭ রানের লড়াকু ইনিংসে ভর করে হারের ব্যবধান কমেছে। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রানের মাথাতে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে টাইগাররা। সিরিজটা ২-১ ব্যবধানে জিতেছে শ্রীলঙ্কা।
লঙ্কানদের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন আসিথা ফার্নান্দো এবং দুশমন্থ চামিরা। ২টি করে উইকেট তোলেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা এবং দুনিথ ভেল্লালাগে।

Post a Comment