সাবেক বিসিবি সভাপতি ও জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ফারুক আহমেদ প্রথমবারের মতো খোলামেলা কথা বলেছেন তাঁর অপসারণ, বোর্ডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, দুর্নীতি এবং নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে। দেশের শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলোকে দেওয়া এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ছিলেন একপ্রকার একাকী—দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর লড়াইটাও ছিল একার।
🎙 "২৩টি কমিটি, তার মধ্যে ১০টি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আমি আর নাজমূল আবেদীন ফাহিম—এই দুইজন মিলে কীভাবে সব সামলাব?"
ফারুক অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল, কারা তাঁর সহকর্মী হতে পারবেন এবং কারা পারবেন না। এমনকি পাকিস্তান সফর শেষে আয়োজিত সংবর্ধনায় উপদেষ্টার পক্ষ থেকে মাহবুবুল আনামের নাম বাদ দেওয়ার অনুরোধও করা হয়।
বোর্ড পরিচালকদের অনেকেই সহযোগিতার পরিবর্তে অপসারণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন বলে জানান ফারুক। বিশেষ করে ফাহিম সিনহা, ইফতেখার রহমান মিঠু এবং মাহবুবুল আনামের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন—
🎙 "এই তিনজন পুরো বিষয়টা সুপরিকল্পিতভাবে করেছেন। অথচ ফাহিমের ওপর আমি ভরসা রেখেছিলাম, দায়িত্ব দিয়েছিলাম।"
তিনি বিসিবির আর্থিক অনিয়মের কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন:
🎙 "জাতীয় দল, ‘এ’ দল, নারী দল—সব ক্ষেত্রেই এক ধরনের লজিস্টিক খরচ দেখানো হয়। যেখানে প্রকৃত ব্যয় ৯ হাজার, সেখানে বাজেট ধরা হয় ১২ হাজার। ট্যুরে দেখানো হয় কোটি কোটি টাকা, অথচ আসল খরচ অনেক কম।"
একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উল্লেখ করে তিনি জানান, ৫ আগস্ট রাতে বিসিবি অফিস থেকে বড় একটি ব্যাগ নিয়ে কর্মচারীরা বাইরে যান। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জানা থাকা সত্ত্বেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
🎙 "আমি পরিষ্কার বলেছিলাম, দুদক যা চাইবে, সব দিতে হবে। কিন্তু কেউ কেউ বলেছিলেন, সব তথ্য দেওয়া প্রয়োজন নেই।"
ফারুক আরও বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ নেই এবং ক্রীড়া উপদেষ্টাও তা স্বীকার করেছেন:
🎙 "উপদেষ্টা নিজেই বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ তিনি বিশ্বাস করেন না। অন্তত এই জায়গায় আমি ক্লিনশিট পেয়েছি।"
অপসারণের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি:
🎙 "গঠনতন্ত্রে কোথাও নেই যে নির্বাচিত সভাপতির বিরুদ্ধে আস্থা হীনতার প্রস্তাব আনা যাবে। আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই সবকিছু রাতারাতি পাল্টে দেওয়া হয়েছে। এমন দ্রুত সিদ্ধান্ত আমি আগে কখনও দেখিনি।"
শেষে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আদালতে রিট করলেও তিনি আর বিসিবিতে কোনো পদে থাকতে চান না, এমনকি ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ারও ইচ্ছা নেই।
🎙 "আমার পদ নয়, দেশের ক্রিকেটটাই বড়। আইসিসির কোনো অনুষ্ঠানে যাইনি—যাতে দেশের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না আসে। তবে বোর্ডে যাঁরা এখন আছেন, যদি তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি না বদলায়, তাহলে দেশের ক্রিকেট সামনে এগোবে না।"
সাক্ষাৎকারের একেবারে শেষে এসে সাবেক এই অধিনায়ক বলেন:
🎙 "হ্যাঁ, আমি হয়তো একরোখা, রাগী হতে পারি—কিন্তু কেউ কখনো বলতে পারবে না যে আমি অসৎ।"
.png)
Post a Comment