আফগান ক্রিকেটকে নি''ষি'''দ্ধ করতে আইসিসিকে ক'ঠো'র চাপ

 



বেশ কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা– আইসিসির কাছে আফগানিস্তানের ক্রিকেট নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছিল বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। যার মূল কারণ তালেবান সরকারের অধীনে দেশটির নারীরা খেলাধুলা ও শিক্ষার মত বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।


নিয়মিত আইসিসির কাছে এমন অনেক নালিশ এলেও এবার যেন বেশ কঠোরভাবেই একের পর এক অভিযোগ জানাচ্ছে মানবাধিকার সংস্থা– হিউমান রাইট ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সবশেষ চিঠিতে তারা আসন্ন ২০২৮ অলিম্পিক থেকে ক্রিকেটকেই বাদ পড়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। যাতে করে বেশ বেকায়দায় পড়েছে ক্রিকেট বিশ্বের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।


এর আগে আইসিসির কাছে পাঠানো চিঠিতে তারা বলে, ‘আমরা এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে আহ্বান জানাচ্ছি যে, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশটিতে নারীরা আবারও শিক্ষা ও খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়, ততক্ষণ তালেবান-শাসিত আফগানিস্তানকে আইসিসির সদস্যপদ থেকে স্থগিত করা হোক এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা হোক।’


এরপরেই আরেক পত্রে এইচআরডব্লিউ সংস্থাটি আইসিসিকে নতুন মানবাধিকার নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়ে বলে, ‘আমরা আরও অনুরোধ করছি যে, আইসিসি যেন জাতিসংঘের ‘বিজনেস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ নির্দেশিকার ভিত্তিতে একটি মানবাধিকার নীতি প্রণয়ন করে।’ আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি উপলক্ষে দুবাইয়ে থাকাকালীন এই চিঠি প্রেরণ করা হয়।



এবার আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে নতুন চিঠি দিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি। তাদের গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের পরিচালক মিঙ্কি ওয়ার্ডেন আইসিসি চেয়ারম্যানকে সতর্ক করেছেন আগামী ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক নিয়ে। তিনি বলেন, আফগান ক্রিকেটকে নিষিদ্ধ না করা হলে অলিম্পিকে হয়তো ক্রিকেটই থাকবে না।


মিঙ্কি ওয়ার্ডেন জানান, ‘আমরা জানি, অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ক্রিকেট। আর অলিম্পিকের চার্টার অনুযায়ী খেলাধুলার সুযোগ পাওয়া প্রত্যেক মানুষের অধিকার। কিন্তু তালেবান নারীদের খেলাধুলা থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করেছে, যা অলিম্পিকের নীতির পরিপন্থি। এই অবস্থায় আমাদের প্রত্যাশা বৈষম্য দূর করতে আইসিসি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ 



উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৯১ সালে তালেবান শাসনকালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি আফগানিস্তানকে নিষিদ্ধ করেছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচতে আফগান সরকারের নারীদের খেলতে দেয়ার প্রতি নমনীয় হওয়া উচিত বলে মনে করছে মানবাধিকার সংস্থাটি। আর অলিম্পিক যাদের ওপর বিধিনিষেধ দিয়ে রেখেছিল, তাদের নিষিদ্ধ কেন করতে পারবে না আইসিসি, সেটাও জানতে চেয়েছে তারা।

Post a Comment

Previous Post Next Post