একসময় মাশরাফির প্রতি ভক্তদের ভালোবাসা ছিল প্রবল। তার নামে পুরো গ্যালারি গর্জে উঠত, তিনি ছিলেন সত্যিকারের নায়ক। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তার প্রতি ভক্তদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। কোটা আন্দোলনের সময় তার নীরবতা এবং মানুষের পাশে না দাঁড়ানোর কারণে সমালোচনা তুঙ্গে ওঠে। এই পরিস্থিতির ফলে তার বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়।
কিন্তু এবার মাশরাফি নিরবতা ভেঙে দেশের একটি গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে সবকিছু স্পষ্ট করেছেন।
প্রশ্ন: এই বাড়িটি তো আপনি রাজনীতিতে আসার আগেই তৈরি করেছিলেন?
মাশরাফি: হ্যাঁ, ২০১৪ সালে এর কাজ শুরু করেছিলাম এবং ২০১৫ সালে শেষ হয়েছে।
আমার যে সম্পদ আছে, তা সবই আমার খেলোয়াড়ি জীবনে গড়া। আপনারা চাইলে যে কোনোভাবে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। পূর্বাচলে আমার একটি জমি আছে, যা ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর সরকার থেকে পেয়েছিলাম। মিরপুরে একটা বাড়ি আছে, ২০০৮ সালে আইপিএল খেলে আসার পর করেছি। আরেকটি বাড়ি মিরপুরে করছি, ২০১৫ সালে এর কাজ শুরু হয়েছে, কিন্তু এখনও শেষ হয়নি। ২০১৮ সালের পর আমি তেমন কোনো সম্পদ গড়তে পারিনি।
আপনারা ২০১৮ সালের নির্বাচনের হলফনামা এবং ২০২৪ সালের হলফনামা দেখলেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন। আমি যেটাই দাবি করি না কেন, কেউ খতিয়ে দেখলেই সব পরিষ্কার হবে।
রাজনীতিতে আসার আগে আমি অনেক এন্ডোর্সমেন্ট পেয়েছি, ২০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ ছিলাম। আমার সব আয়-রোজগার খেলাধুলা এবং স্পন্সরশিপ থেকেই এসেছে।
নড়াইলে আমার মায়ের জন্য বাড়িটি করেছি। এখন সেটা শেষ হয়ে গেছে। অনেকে আমাকে মামলা করতে বলেছে, কিন্তু আমি তা করিনি। ছবি-ভিডিও প্রমাণও আছে, কিন্তু আমি এসব নিয়ে আর কোনো ব্যবস্থা নিতে চাই না। আমি আমার বাবাকেও বলে দিয়েছি, এখনকার বা ভবিষ্যতের কোনো সরকারের কাছেও বিচার চাইব না। যারা নড়াইলের মানুষ, তাদের বিরুদ্ধে আমি কোনো অভিযোগ করব না। আমি আমার ভাগ্য মেনে নিয়েছি, হয়তো কোনো ভুল করেছি যার জন্য এই পরিণতি। অবশ্যই কষ্ট আছে, কিন্তু কারও প্রতি রাগ বা ক্ষোভ নেই। যদি এখনও কারও আমার প্রতি ক্ষোভ থাকে, আমি তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী।

Post a Comment