চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দীর্ঘ ১৭ বছর পর সুপার এইটে উঠে বাংলাদেশ। বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে এই সাফল্য অর্জন করে টাইগাররা। তবে, ব্যাটিং পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। শুধুমাত্র একটি ম্যাচে ১৬০ রান করতে সক্ষম হয় দল, বাকী সব ম্যাচেই ব্যাটসম্যানরা বল প্রতি রান করতে ব্যর্থ হন। এর ফলে দায়ি করা হচ্ছে বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের।
নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস এবং তানজিদ তামিম এবারের বিশ্বকাপে ভালো করতে পারেননি, যার প্রভাব পড়েছে ম্যাচের ফলাফলে। তবে পুরো দোষ শুধু তাদের উপর নয়; সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং সাকিব আল হাসানও এই বিশ্বকাপে ব্যর্থ হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছে যে নাজমুল হোসেন শান্ত, বিসিবি প্রধান নির্বাচক গাজি আশরাফ হোসেন লিপুর চাচাতো ভাই। তবে এই তথ্য সঠিক নয়। লিপু হচ্ছেন ঢাকার ছেলে, এবং তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একজন প্রভাবশালী বোর্ড পরিচালক। বিভিন্ন সময়ে দেশের ক্রিকেটে নানা দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করছেন, যা তাকে জোর করে দেয়া হয়েছে বলে বলা হচ্ছে।
তবে, শান্ত ও লিপুর মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই। শান্ত জাতীয় দলে সুযোগ পান অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভালো পারফর্ম করার পর। মিরাজ, সাইফউদ্দিন এবং শান্ত একসাথে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলেছেন। শান্ত রাজশাহীর ছেলে, আর লিপু ঢাকার। তাদের মধ্যে কোন রকমের সম্পর্ক নেই; এই গুজব সম্পূর্ণ মিথ্যা।
আরেকটি ভুয়া খবর ছড়িয়েছে যে শান্ত নাকি বলেছেন, "আমাদের ১৮ কোটি মানুষের ইমান ঠিক নেই, তাই আমাদের দোয়া কবুল হয়নি এবং বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ভালো করতে পারেনি।" এই তথ্যটিও সম্পূর্ণ মিথ্যা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এমন কোনো মন্তব্য করেননি।
শান্ত এবং দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের নিয়ে এই ধরনের ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে পড়া দুঃখজনক। আমাদের উচিত সত্য তথ্যের ভিত্তিতে বিচার করা এবং দলের প্রতি সমর্থন বজায় রাখা।

Post a Comment