শেষ ওভারের ঘটনাটি ছিল রোমাঞ্চকর এবং নাটকীয়। দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ছিল ৬ বলে ১৬ রান, যাতে তারা শিরোপা জিততে পারে। হার্দিক পান্ডিয়া প্রথম বলটি করলেন, ডেভিড মিলার লং অফ দিয়ে বলটিকে উড়িয়ে দিলেন। বল বাতাসে ভেসে যাচ্ছিল, বাউন্ডারির দিকে। সূর্যকুমার দৌড়ে এসে বলটিকে তালুবন্দি করলেন, কিন্তু ব্যালেন্স রাখতে না পেরে বলটি বাইরে ছুঁড়ে দিলেন এবং দ্রুত ফিরে এসে আবারও ক্যাচ নিলেন।
এখানেই নাটকীয়তা শুরু হয়। বাউন্ডারি রোপ মূল সীমানা থেকে সরে গিয়েছিল। আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী ১৯.৩ ধারা এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়। এই ধারা অনুযায়ী, ‘সীমানা চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত কোনো কঠিন বস্তু যদি কোনো কারণে বিঘ্নিত (সরে যায়) হয়, তাহলে সীমানাটির আসল অবস্থান বিবেচনা করা হবে।’ এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, সীমানা চিহ্নিত বস্তু সরে গেলে তা যত দ্রুত সম্ভব ঠিক করতে হবে এবং খেলা চলাকালীন বল ডেড হওয়ামাত্রই এ কাজ করতে হবে।
১৯.৩.২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সীমানা চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত কোনো কঠিন বস্তু যদি কোনো কারণে বিঘ্নিত (সরে যায়) হয়, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব তা ঠিক করতে হবে। খেলা চলতে থাকলে বল ডেড হওয়ামাত্রই এ কাজ করতে হবে।’
এই নিয়ম অনুযায়ী, মিলারের ক্যাচটি ছক্কা হিসেবে গণ্য হবে। যদি এমন হত, তবে বিশ্ব হয়তো নতুন চ্যাম্পিয়ন পেয়ে যেতো। সুতরাং, আইসিসির নিয়ম সরাসরি বলছে যে মিলারের ক্যাচটি অবৈধ ছিল এবং সেটি ছক্কা হওয়া উচিত ছিল।
ম্যাচের এই মুহূর্তটি কেবলমাত্র একটি রোমাঞ্চকর ঘটনাই নয়, বরং এটি ক্রিকেট খেলার নিয়ম এবং ন্যায়বিচার কীভাবে মাঠে কার্যকর হয়, তার একটি নিখুঁত উদাহরণ। বাউন্ডারি রোপের এই সামান্য বিচ্যুতি একটি দলের শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে, তা ভাবনার উদ্রেক করে। তাই এমন মুহূর্তে আইসিসির নিয়মের প্রভাব এবং কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। যদি মিলারের ছক্কাটি গণ্য হতো, তবে ইতিহাস হয়তো অন্যভাবে লেখা হতো, এবং দক্ষিণ আফ্রিকা হয়তো তাদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা উদযাপন করত।

Post a Comment