স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। ফলে শেষ ষোলোর টিকিটও নিশ্চিত হয়ে গেছে কার্লো আনচেলত্তির দলের। এখন প্রশ্ন একটাই; নকআউট পর্বে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ কে হবে? এই উত্তর মিলবে শুক্রবার (২৬ জুন) ভোর ৪টায় শুরু হওয়া ম্যাচ শেষে। গ্রুপ ‘এফ’-এর অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে ব্রাজিলের পরবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বী। বর্তমানে জাপান, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন; এই তিন দলের যেকোনো একটির মুখোমুখি হতে পারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রতিবেদন গ্লোবো এস্পোর্তের।
বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী ব্রাজিলের সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ জাপান। গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ দলের বিপক্ষে খেলবে গ্রুপ ‘সি’-এর চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর দুই রাউন্ড শেষে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান।
গ্রুপ ‘এফ’-এর বর্তমান চিত্র
দুই ম্যাচ শেষে চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে নেদারল্যান্ডস। সমান চার পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে জাপান। তবে বেশি গোল করায় এগিয়ে রয়েছে ডাচরা। তৃতীয় স্থানে থাকা সুইডেনের সংগ্রহ তিন পয়েন্ট। আর তিউনিসিয়া ইতোমধ্যেই বিদায় নিশ্চিত করেছে। শুক্রবার ভোরে অনুষ্ঠিত হবে জাপান-সুইডেন এবং তিউনিসিয়া-নেদারল্যান্ডস ম্যাচ। এই দুই ম্যাচের ফলই ঠিক করে দেবে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ।
কোন সমীকরণে কে হতে পারে ব্রাজিলের প্রতিদ্বন্দ্বী?
*জাপানই যদি রানার্সআপ থাকে
বর্তমান অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলে কিংবা নেদারল্যান্ডস গ্রুপসেরা এবং জাপান দ্বিতীয় স্থানে থাকলে, শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে জাপান।
*নেদারল্যান্ডস যদি দ্বিতীয় স্থানে নেমে যায়
জাপান যদি সুইডেনকে হারায় এবং নেদারল্যান্ডস তিউনিসিয়ার বিপক্ষে পয়েন্ট হারায়, তাহলে জাপান গ্রুপসেরা হতে পারে। সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে নেমে আসবে নেদারল্যান্ডস, আর ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে ডাচরা।
*সুইডেনেরও সুযোগ আছে
সুইডেন যদি জাপানকে হারায় এবং নেদারল্যান্ডসও পয়েন্ট হারায়, তাহলে গ্রুপের অবস্থান পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে সুইডেনও ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হওয়ার দৌড়ে থাকবে।
নেদারল্যান্ডস: আক্রমণভাগে ভয়ংকর
কোচ রোনাল্ড কোম্যানের দল দুই ম্যাচে সাত গোল করেছে। আক্রমণে রয়েছেন কোপি গাকপো, ডনিয়েল মালেন এবং ব্রায়ান ব্রবি। বিশেষ করে সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে আলোচনায় এসেছেন ব্রবি। বেঞ্চে আছেন অভিজ্ঞ মেমফিস দিপাই, যিনি পুরোপুরি ফিট না থাকলেও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন। তবে ডাচদের দুর্বলতা রয়েছে সেট-পিস ডিফেন্সে, যা জাপানের বিপক্ষে স্পষ্ট হয়েছে।
জাপান: আক্রমণই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল জাপান। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিশ্বকাপে খেলছে এশিয়ার দলটি। কোচ হাজিমে মরিয়াসুর দল পুরো ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। উইং-ভিত্তিক আক্রমণে তাদের জুড়ি মেলা ভার। দেইজেন মায়েদা, তাকেফুসা কুবো, জুনিয়া ইতো, কেইতো নাকামুরা ও রিতসু দোয়ান নিয়মিত আক্রমণে অংশ নেন। তবে অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হওয়ার কারণে রক্ষণে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, যা ব্রাজিলের দ্রুতগতির আক্রমণভাগের জন্য সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
সুইডেন: গোল করার ক্ষমতা আছে, কিন্তু রক্ষণে দুর্বলতা
প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিলেও পরের ম্যাচে একই ব্যবধানে নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরেছে সুইডেন। ফলে দলটির ভারসাম্যের অভাব স্পষ্ট। আক্রমণে আছেন ভিক্টর গিকেরেস এবং আলেক্সান্ডার ইসাক। দুজনই গোল ও অ্যাসিস্টে দারুণ ছন্দে রয়েছেন। তবে রক্ষণভাগে একাধিক দুর্বলতা রয়েছে, যা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Post a Comment