ভারতের রাজগির ও বিহারে আগামী ২৯ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হবে হকির এশিয়া কাপ। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে এই আসর থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে পাকিস্তান হকি ফেডারেশন (পিএইচএফ)। খবর ভারতীয় গণমাধ্যমের।
এশিয়া কাপটি ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য কোয়ালিফায়ার হিসেবেও কাজ করবে, তাই পাকিস্তানের অনুপস্থিতি বড় ধাক্কা। তবে শুধু এশিয়া কাপ নয়, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভারতের চেন্নাই ও মাদুরাই অনুষ্ঠিতব্য জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণও এখন অনিশ্চিত।
ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, পিএইচএফ এশিয়ান হকি ফেডারেশনকে টুর্নামেন্টটি নিরপেক্ষ কোনো স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে আয়োজকরা পাকিস্তানকে না পেয়ে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
হকি ইন্ডিয়ার একজন কর্মকর্তা দ্য হিন্দুকে বলেন, ‘পাকিস্তান হকি ফেডারেশন এশিয়ান হকি ফেডারেশনকে লিখিতভাবে জানিয়েছে, নিরাপত্তার কারণেই তারা টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে না। এরপর আমরা বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’
পিএইচএফ এখনো এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি। তবে তারা আগেই জানিয়েছিল, দল পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে পাকিস্তান সরকার।
পাকিস্তান ও ভারতের সম্পর্কের কারণে এই ধরনের পরিস্থিতি আগেও ঘটেছে। ২০১৬ সালের জুনিয়র বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তান দল নিরাপত্তাজনিত কারণে অংশ নিতে পারেনি, যার ফলে ভারত জয়ী হয়। তবে গত বছর ২০২৩ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তান দল চেন্নাইয়ে অংশ নিয়ে ষষ্ঠ দল হিসেবে শেষ করেছিল।
পাকিস্তান হকির ইতিহাস গৌরবময়। তারা অলিম্পিক, বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপে একসময় দাপট দেখিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও রাজনৈতিক জটিলতার কারণে তাদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এবারের এশিয়া কাপ থেকে সরে দাঁড়ানো কেবল পাকিস্তানের জন্যই নয়, হকি প্রেমীদের জন্যও হতাশার। এই ঘটনা ক্রীড়ার মাঠে রাজনীতির প্রভাব আরেকবার তুলে ধরল।

Post a Comment