১৩০ স্ট্রাইক রেটও যথেষ্ট নয়! উডের মিশন: বাংলাদেশকে টি-২০ ত্রা''সে পরিণত করা!

 



পাওয়ারহিটিং কোচের দায়িত্ব নিয়ে ৩ সপ্তাহের চুক্তিতে বাংলাদেশে আসছেন জুলিয়ান রস উড। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পাওয়ারহিটিংয়ের যুগে উডের চাহিদা এখন বেড়ে গেছে। বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের সাথে কাজ করছেন উড, শেষ করেই ধরবেন ঢাকার বিমান।




এর আগে বিপিএলে পাওয়ারহিটিং কোচ হিসেবে কাজ করেছেন উড। বাংলাদেশের প্লেয়ারদের অনেককে তাই চেনেন বেশ ভালোভাবেই। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের সংগ্রামের ইতিহাসও অজানা নয়। ব্যাটারদের পাওয়ারহিটিংয়ের অপারদর্শীতার ফলে বেশ ভুগতে হয়েছে বাংলাদেশকে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এমন নাজুক দশা কাটাতেই উডের শরনাপন্ন হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।


 


শ্রীলঙ্কায় দায়িত্ব শেষ করেই বাংলাদেশে আসবেন জুলিয়ান উড। এর আগে জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন নিজের ইচ্ছা, কর্মপরিকল্পনার কথা।



কালের কণ্ঠকে উড বলেছেন, ‘এই (শ্রীলঙ্কার) দায়িত্ব শেষ করে ঢাকার বিমান ধরব। কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন ছিল। ফিল সিমন্সের (বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ) সঙ্গে আমার একাধিকবার কথা হয়েছে। তিনিই আমাকে দলের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী করে তুলেছেন। বিপিএলের সুবাদে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে আমার একটা পূর্বপরিচিতি আছে। তখন থেকেই বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ করার বিষয়টি ঘুরেফিরে আলোচনায় ছিল। তাই এটি আমার কাছে ছিল ‘কবে হবে’, ‘হবে কি হবে না’ নিয়ে নয়; সময়ের ব্যাপার ছিল কেবল। এখন মনে হচ্ছে উপযুক্ত সময়টা চলে এসেছে।’


 


৩ সপ্তাহে কী পরিবর্তন আনা যাবে এমন প্রশ্নের জবাবে উড বলেন, ‘তিন সপ্তাহ সময় শুনতে কম মনে হলেও অনেক কিছু করা যায়। এর মধ্যে যদি বাংলাদেশি ব্যাটারদের আরও আক্রমণাত্মক, আরও ধ্বংসাত্মক করে তুলতে পারি, একটি ইউনিট হিসেবে তাদের ব্যাটিংয়ে পরিবর্তন আনতে পারি, তাহলে সেটা হবে আমার কাজের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব। আমি চাই, তারা যেন বিশ্বমঞ্চে গিয়ে প্রতিযোগিতার ধরনটাই বদলে দেয়। তারা এমন একটি দল হোক, যাদের ভয় পাবে প্রতিপক্ষ। এমন একটা পরিচিতি তৈরি হোক, যে বাংলাদেশ মানেই ভয়ংকর ব্যাটিং লাইনআপ। এটাই রেখে যেতে চাই আমার সংক্ষিপ্ত সময়ের শেষে। যদিও আমি ভবিষ্যতে আরও কিছু করার সুযোগ পেলে খুশি হব।’


 


বাংলাদেশের বাস্তবতা বুঝেই ক্রিকেটারদের উন্নতিতে কাজ করার ইচ্ছা উডের। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশি ব্যাটারদের স্ট্রাইকরেটের দুর্দশাও ভালোভাবেই জানা আছে তার। উড জানান, ‘আমি এরই মধ্যে বাংলাদেশি ব্যাটারদের পরিসংখ্যান দেখেছি। অনেকের স্ট্রাইক রেট ১১৫ থেকে ১৩০। আমাদের লক্ষ্য হবে সেটা বাড়ানো। খেলোয়াড়দের আক্রমণের জন্য যত বেশি সম্ভব বিকল্প পথ খুঁজতে হবে। যত সুযোগ বাড়াতে পারবে, তারা তত কম চাপ অনুভব করবে এবং কম বিচলিত হবে। আমি ওপেনিং থেকে শুরু করে পুরো ব্যাটিং লাইনআপে একটা আতঙ্ক সৃষ্টি করার বৈশিষ্ট্য আনতে চাই, যা প্রতিপক্ষের মনে ভয় ধরিয়ে দেবে।’



পাওয়ারহিটিংয়ের ক্ষেত্রে শারীরিক শক্তি ছাড়াও মানসিক ব্যাপারের গুরুত্ব দেখেন উড। সেই সাথে লাগবে টেকনিকও। উড জানিয়েছেন, ‘শারীরিক শক্তি অবশ্যই সাহায্য করে। আপনি যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়দের দেখেন, তারা সবাই বিশালদেহী। ওদের শরীর-গঠন ছোট সংস্করণের ক্রিকেটের জন্য উপযোগী। তবে মানসিকতাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আপনার মধ্যে সঠিক ইচ্ছা থাকতে হবে। মানসিক প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। নিজের মানসিকতার ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে, আবার নিজের টেকনিকের ওপরও আস্থা রাখতে হবে। সঙ্গে এটাও মনে রাখতে হবে, পাওয়ার হিটিং একটা আলাদা ধরনের টেকনিক।’


 


এর আগে বিপিএলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের পাওয়ারহিটিং কোচ হিসেবে কাজ করে গেছেন জুলিয়ান উড। জাতীয় দলের কিছু ক্রিকেটারের সাথে তাই আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এবার দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশে আসলে নিজের সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান জুলিয়ান উড।


 


কোচ জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশে গিয়ে আমি যাদের নিয়ে কাজ করব, সেইসব খেলোয়াড় জানে আমি কী করি এবং কী নিয়ে কাজ করি। আমি তাদের কাছে নতুন কেউ নই। আমি তাদের গঠন দেখেছি, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বা ইংলিশদের মতো নয়। তাই সবাইকে এক ছাঁচে ফিট করার চেষ্টা করলে হবে না। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা তুলনামূলকভাবে কম পেশিবহুল, তাই ওদের ক্ষেত্রে ছন্দ, টাইমিং এবং শরীরের নড়াচড়ার ধারাবাহিকতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যারা অপেক্ষাকৃত ছোট গড়নের, তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যাটিং টেম্পো ও শারীরিক মুভমেন্টের সঠিক ক্রম ধরে রাখাটাই মূল বিষয়।’


 


অনুশীলনে বাংলাদেশের ব্যাটারদের সামর্থ্য বাড়ানো নিয়ে কাজ করতে চান উড। তার মতে, ‘বাংলাদেশে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। আমার লক্ষ্য, বাংলাদেশকে এমন একটা দল বানানো, যাদের টপ অর্ডারই প্রতিপক্ষের মাঝে ভয় তৈরি করে। অনুশীলনে আমি বিভিন্ন অবস্থান ও টেকনিকের ওয়ার্কলোড বাড়াতে চাই। এতে খেলোয়াড়দের শরীরের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। তাতে ওরা বুঝতে পারবে, বড় শট খেলার সময় শরীর আসলে কিভাবে কাজ করে। এভাবে তারা নিজেরাই নিজের ভুল ধরতে পারে। এই পদ্ধতি এক অর্থে সেলফ-কোচিং। যদি এটা তারা সঠিকভাবে না করে, তাহলে অনুশীলনটাই কার্যকর হয় না।’



আপাতত কোনো সিরিজ নেই বাংলাদেশ দলের। সামনে আছে এশিয়া কাপ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মত গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট। বিশ্বকাপ মাথায় রেখে এবার এশিয়া কাপও হচ্ছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে।


 


সব মিলিয়ে এমন সময়ে উডের মত পাওয়ারহিটিং কোচই খুব জরুরি বাংলাদেশ দলের জন্য। তিনি পরিস্থিতির কতটা উন্নতি ঘটাতে পারেন তার উপরই অনেকাংশে নির্ভর করছে আসন্ন বড় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের গতিপথ।


Post a Comment

Previous Post Next Post