বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) ২০২৫-এর ফাইনাল ঘিরে ক্রিকেট বিশ্বের দৃষ্টি এখন ইংল্যান্ডের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডের দিকে। কিন্তু এই ম্যাচ ঘিরে তৈরি হয়েছে এক বিতর্ক—ভারতের ম্যাচ হলেও আয়োজক ইংল্যান্ড, আর এতে অনেকেরই প্রশ্ন, তবে কি ভারতের ‘ক্রিকেটীয় জমি’ কেড়ে নিলো ইংল্যান্ড? আর এর পেছনে ‘ভিলেন’ হিসেবে উঠে আসছে পাকিস্তানের নামও।
কী ঘটেছে?২০২৫ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় ভারত ও ইংল্যান্ড। ক্রিকেট অনুরাগীরা আশা করেছিলেন, এবার হয়তো ফাইনাল আয়োজিত হবে ভারতে, বিশেষ করে যেহেতু ভারত ছিল অন্যতম আয়োজক দল ও বড় অর্থনৈতিক শক্তি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী লর্ডস স্টেডিয়ামে।
আইসিসির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ?২০২১ সালে ডব্লিউটিসির সূচনার সময় আইসিসি ইঙ্গিত দিয়েছিল, ভবিষ্যতে ফাইনাল ম্যাচগুলোর আয়োজক দেশ ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নির্ধারণ করা হবে। অনেকের মতে, ভারতের বিপুল ক্রিকেট বাজার ও সফলতা বিবেচনায় এবারের ফাইনাল ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়াটা ন্যায্য হতো। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি আইসিসি। এ কারণে উঠছে প্রশ্ন—আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কি ভারতের প্রতি বৈষম্য করছে?
পাকিস্তান কোথায় এসে জড়ালো?অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) আইসিসিতে কূটনৈতিক তৎপরতা ও রাজনৈতিক অবস্থান হয়তো এ সিদ্ধান্তে প্রভাব রেখেছে। বিশেষ করে, ২০২৩ সালের এশিয়া কাপ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘হাইব্রিড মডেল’ বিতর্কের রেশ এখনও কাটেনি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বিতর্কের ধারাবাহিকতায় আইসিসির নীতিগত কিছু সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের চাপ ছিল।
বিতর্কিত 'হাইব্রিড মডেল'পাকিস্তানের প্রস্তাবে এশিয়া কাপ হয়েছিল ‘হাইব্রিড মডেলে’, অর্থাৎ কিছু ম্যাচ পাকিস্তানে, বাকিগুলো শ্রীলঙ্কায়। ভারত সরাসরি পাকিস্তানে না যাওয়ার অবস্থান নেয়। অনেকে মনে করছেন, এই হাইব্রিড মডেলই আইসিসির মধ্যে একধরনের বিভাজন তৈরি করেছে, যার প্রভাব পড়েছে ডব্লিউটিসি ফাইনালের ভেন্যু নির্ধারণেও।
কে ‘ভিলেন’?ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের মতে, আইসিসির এই সিদ্ধান্ত ‘ভারতের প্রতি অবিচার’। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, পাকিস্তানের কৌশলগত চাপ আইসিসিকে প্রভাবিত করেছে। আর তাই ‘ক্রিকেট মাঠে নয়, মাঠের বাইরের কূটনীতি’ই ফাইনালের আয়োজন কেড়ে নিল ভারতের কাছ থেকে।

Post a Comment