বাংলাদেশ জাতীয় দলের মিডল অর্ডার এখন এক বিপর্যয়ের নাম। বিশেষ করে ওয়ানডে ফরম্যাটে ব্যাটিংয়ের সময় স্ট্রাইক রোটেশন একটা বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যার কেন্দ্রে আছেন তাওহীদ হৃদয়, যিনি গত কিছু ম্যাচে বারবার প্রমাণ করে ফেলেছেন যে তার স্ট্রাইক রোটেশনে মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। টানা ডট বল খেলে চাপ বাড়ানো, সিঙ্গেল নেওয়ার জড়তা—এসব মিলিয়ে তার উপস্থিতি মাঝেমধ্যে দলের বিপদই ডেকে আনছে।
অন্যদিকে, প্রশ্ন ছিল—সোহান কাকে রিপ্লেস করে দলে ঢুকবেন? এখন উত্তরটা বেশ পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। একজন দক্ষ কিপার দরকার দলে, যিনি মাঠের ভিতরে শুধু গ্লাভস দিয়ে না, নেতৃত্ব দিয়েও অবদান রাখতে পারেন। নুরুল হাসান সোহান ঠিক সেই খেলোয়াড়, যিনি কিপিংয়ে ধারাবাহিক এবং ফিল্ডিং ইউনিটকে প্রাণবন্ত রাখতে পারদর্শী।
অনেকেই বলেন, ‘সোহান গ্যারান্টি না।’ কিন্তু প্রশ্ন হলো, হৃদয় কি গ্যারান্টি? যদি স্ট্রাইক রোটেশনে এমন দুর্বলতা থাকে, যদি প্রতিবার ডট বল খেলেই চাপ সৃষ্টি হয়, তাহলে এমন ব্যাটারকে মিডল অর্ডারে রাখা মানে প্রতিটি ম্যাচে রিস্ক নেওয়া।
আরেকটি ব্যাপার—ষষ্ঠ বোলারের প্রয়োজনীয়তা পূরণে শামীম হোসেন পাটোয়ারিকে সুযোগ দেওয়া হোক। অন্তত ব্যাটিংয়ে সে ঝড় তো তুলতে পারে, আর হাত ঘুরিয়েও সাহায্য করতে পারে বোলিং ইউনিটকে।
এখন সময় এসেছে সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার। পুরনো ব্যর্থতা ধরে রাখার কোনো মানে নেই। মিডল অর্ডারে নতুন মুখ দরকার, আর সেই জায়গায় সোহান হতে পারেন সবচেয়ে ভালো বিকল্প। কিপিং, নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা—সবই আছে তার ঝুলিতে।
শেষ কথা: তাওহীদের স্ট্রাইক রোটেশন যতদিন উন্নত না হবে, ততদিন তার বদলে একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও টিম-ম্যান সোহানকে সুযোগ দেওয়া উচিত। এখনই সময়— "সোহানকে জাতীয় দলে ফেরানোর!"

Post a Comment