ম্যাচ শেষে বিদায়ের ইঙ্গিত মুশফিকের।সেঞ্চুরি করে বললেন শেষ সময়ে এসে এর চেয়ে ভালো কিছু আর কী হতে পারে।
টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম দিনে দল যদি ৪৫ রানে ৩ উইকেট হারায়, সাধারণত ধরে নেওয়া যায় দিনটা প্রতিপক্ষের। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য গল টেস্টের প্রথম দিনটি যেন ছিল ব্যতিক্রমের গল্প। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের অবিচল সেঞ্চুরিতে দিনশেষে ২৯২/৩-একটি দৃঢ় প্রত্যাবর্তনের নিখুঁত উদাহরণ।
বাংলাদেশ টসে জিতে ব্যাট করতে নামে। কিন্তু শুরুর সেই সিদ্ধান্ত প্রথম ঘণ্টায় কঠিন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়। ৪৫ রানের মধ্যে সাজঘরে ফেরেন সাদমান, এনামুল ও মুমিনুল। চারদিক থেকে চাপ, গলে সকালবেলার সুইং, এবং বাংলাদেশের চিরচেনা বিদেশ-ভীতি-সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল দিনটা দীর্ঘ হবে।
কিন্তু মঞ্চে এলেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার-শান্ত ও মুশফিক। আর তারা যা করলেন, তা শুধু একটি ইনিংস নয়, বরং ক্রিকেটীয় পরিপক্বতার উপাখ্যান। কোনো ঝুঁকি নয়, কোনো অতিরিক্ত তাড়াহুড়া নয়। শান্ত এবং মুশফিক গড়লেন ২৪৭ রানের অপরাজিত জুটি। শান্ত খেলেন ২৬০ বলে ১৩৬ রানের ইনিংস, ইনিংস জুড়ে ছিল পরিণত এক ‘অধিনায়কের মতো’ ব্যাটিং। মুশফিক ১৮৬ বলে ১০৫*, যা তার ১৩ ইনিংস পর প্রথম ফিফটির দেখা।
আজ গল টেস্টের ১ম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক বলেন, ‘আমি শান্তকে বলেছিলাম, কত রান হচ্ছে সেটা বড় কথা নয়। আমাদের সারা দিন ব্যাট করতে হবে। ২০১৩ সালে আশরাফুল ভাইয়ের সঙ্গে একইভাবে আমি সারাদিন ব্যাট করেছিলাম। আজকেও আমরা সেটাই করলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘গলে ব্যাট করতে আমি দারুণ উপভোগ করি। বল যখন পুরনো হয়, এখানে ব্যাটাররা সুবিধা পায়-যদি ধৈর্য রাখা যায়।’
প্রায় এক যুগ আগে, এই গলেই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিক। আজ আবার সেই একই মাঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘এটা আমার তৃতীয় টেস্ট এখানে। প্রতিবার ভালো উইকেট পেয়েছি। হ্যাঁ, উইকেট ধীরে ধীরে কঠিন হয়, তাই শুরুটা কাজে লাগানো দরকার। ২০০ করার পরিকল্পনা করে কেউ নামে না। প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস রেখে খেলতে হয়। ইনশাল্লাহ, সুযোগ থাকলে বড় করব।’

Post a Comment