প্রায় সাত মাস হলো বাংলাদেশের হেডকোচ হিসেবে নেই চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। কোড অব কন্ডাক্ট ভঙ্গের কারণে তার সাথে চুক্তি বাতিল করে ফিল সিমন্সকে দায়িত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে দায়িত্ব ছাড়ার প্রায় সাত মাস পর টাইগারদের হেড কোচ করে বসলেন বিস্ফোরক মন্তব্য। অস্ট্রেলিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বোমা ফাটিয়েছেন হাথুরুসিংহে।
অজি গণমাধ্যম কোড স্পোর্টসকে হাথুরু জানান, ‘আমার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সিইওর (বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী) শেষ কথাটি ছিল, আমার চলে যাওয়া উচিত। এ ব্যাপারে বোর্ডের কাউকে কিছু বলার দরকার নেই। “আপনার কাছে কি (বিমানের) টিকিট আছে?” এটা আমার কাছে একটা সতর্কীকরণ সংকেত মনে হলো। তখনই আমি একটু ভয় পেয়ে গেলাম।’
হাথুরুসিংহে আরও বলেছেন, ‘সাধারণত সেই দেশে (বাংলাদেশে) ভ্রমণের সময় আমি একজন গাড়িচালক এবং একজন বন্দুকধারী পেতাম। সেদিন তিনি বললেন, “আপনার সঙ্গে কি আজ বন্দুকধারী এবং গাড়িচালক আছেন?” আমি বললাম, না, আমার সঙ্গে শুধু গাড়িচালক আছেন।’
এরপর টাকা তোলার জন্য ব্যাংকে যান হাথুরুসিংহে। সেখানের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে হাথুরু বলেন, ‘আমি সরাসরি ব্যাংকে গিয়েছিলাম, দেশ ছেড়ে যাওয়ার জন্য টাকা তোলার চেষ্টা করছিলাম। আমি যখন ব্যাংকে ছিলাম, তখন টিভিতে একটি ব্রেকিং নিউজ যাচ্ছিল, “চন্ডিকাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি একজন খেলোয়াড়কে লাঞ্ছিত করেছেন।” যখন এই খবর এলো, তখন ব্যাংক ম্যানেজার বললেন, “কোচ, আমাকে আপনার সঙ্গে যেতে হবে। লোকেরা আপনাকে রাস্তায় দেখলে সেটা আপনার জন্য নিরাপদ হবে না।”’
হাথুরু আরও বলেন, ‘তখন আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি, কারণ আমাকে দেশ থেকে চলে যেতে হবে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের মধ্যরাতের ফ্লাইটের জন্য এক বন্ধু আমাকে বিমানবন্দরে নিয়ে গেল এবং আমি একটি টুপি ও একটি হুডি পরে গেলাম, সেখানে কোনো নিরাপত্তা নেই।’
স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের পতনের পর তাদের দোসরদের অনেককেই গ্রেফতার করা হচ্ছিল। সেইসব ঘটনা দেখে গ্রেফতারের ভয় মনে ঢুকে গিয়েছিল হাথুরুরও।
তিনি জানান, ‘দেশ ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করার জন্য তারা আমাকে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করতে পারত। একটা ঘটনা ঘটেছিল যে, আগের সরকারের একজন মন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন, রানওয়েতে বিমানটি থামিয়ে তাকে বের করে আনা হয়। এসব আমার মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল। তারপর প্রবেশপথে এক্স-রে মেশিনে, বিমান বাহিনীর একজন কর্মকর্তা আমাকে বললেন, “আমি দুঃখিত কোচ, আমি খুব দুঃখিত যে, আপনি চলে যাচ্ছেন” (আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন)। আমি আমার প্রাণ নিয়ে ভয়ে ছিলাম এবং তিনি বলেছিলেন যে, আমি তাদের দেশের জন্য অনেক কিছু করেছি।’
বিসিবির বিপক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন হাথুরুসিংহে। যা তার ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশের এ সাবেক কোচ।
হাথুরুসিংহে বলেছেন, ‘এটাই (ক্রিকেট) সবকিছু, কারণ এটাই আমার ক্যারিয়ার। তারা আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে অভিযোগ এনে আমার ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিয়েছে।’
বাংলাদেশের দায়িত্ব থেকে অব্যহতির অন্যতম কারণ ছিল নাসুম আহমেদকে চড় মেরেছেন হাথুরুসিংহে। কিন্তু সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। সেই সাথে নতুন সভাপতি পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে সরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ হাথুরুর।
২০২৩ বিশ্বকাপের ঘটনা প্রসঙ্গে হাথুরু জানিয়েছেন, ‘আমি কখনও কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে ঝগড়া করিনি। খেলোয়াড়দের সঙ্গে আবেগ দেখাই না আমি। হয়তো হতাশা থেকে আমি একটি ডাস্টবিনে লাথি দিয়েছি, যে কোনো কোচের ক্ষেত্রেই এমনটা হয়। কিন্তু যা হয়েছে, তার থেকে এটা একেবারেই আলাদা। এটা আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। আমি জানি না অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত কত সুযোগ আমি হারিয়েছি। তারা কেবল আমার চুক্তি বাতিল করার চেষ্টা করেছে। নতুন সভাপতির পূর্বপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ছিল এটা।’

Post a Comment