ভূমিকম্প থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তি শোনালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা

 



মিয়ানমারে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত লেগেছে থাইল্যান্ডের ব্যাংককেও। সেখানে একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবন ধসে পড়েছে।


আজ শুক্রবারের এই ভূমিকম্পে ব্যাংককে ধসে পড়া ওই ভবন থেকে কোনোমতে প্রাণে বেঁচে ফেরা এক নির্মাণ শ্রমিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে শুনিয়েছেন তাঁর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা।



৩১ বছর বয়সী সুনান কেনকিয়াত জানান, তিনি ওই ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থায় কাজ করছিলেন। হঠাৎ দুপুরের দিকে ভূমিকম্প শুরু হয়।


সুনান কেনকিয়াত বলেন, ‘পুরো ভবন ভয়ানকভাবে দুলছিল আর আমার মাথাও বনবন করে ঘুরছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সিমেন্টের টুকরোগুলো মাথার ওপর ধসে পড়তে শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে কম্পন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। আমি চিৎকার করে সবাইকে দৌড়াতে বলি।’


কিন্তু তার আগেই প্রচন্ড শব্দে ভবনটি ধসে পড়ে। সুনান কেনকিয়াত বলেন, ‘হঠাৎ যেন তিন তিনটি বোমা বিস্ফোরিত হলো। এত তীব্র শব্দ আমি জীবনে শুনিনি। এর পুরো এলাকা সাদা ধুলোয় ভরে উঠল।’


‘এরপর আমি আর কিছুই দেখতে পাইনি।’ বলছিলেন সুনান কেনকিয়াত। ‘আমি শুধু দিগ্বিদিক শূন্য হয়ে দৌঁড়াচ্ছিলাম। কোন দিকে দৌড়াচ্ছিলাম জানি না।’


কিছুক্ষণ সুনান কেনকিয়াত দেখতে পান, তার চারপাশে শুধু ধ্বংসস্তুপ। তিনি তাঁর সহকর্মীদের খুঁজতে শুরু করেন।


সুনান কেনকিয়াত বলেন, ‘আমার সারা শরীর সাদা ধুলোয় ভরা। যখন কোনো মতে ধ্বংসস্তুপ থেকে বের হলাম তখন উদ্ধারকর্মীরা আমার ধুলো মুছতে সাহায্য করলেন। আমার মনে হচ্ছিল, সিমেন্টের স্ল্যাবের নিচেই আজ হয়তো আমার মৃত্যু হতো।’


সুনান কেনকিয়াত তাঁর তিন সহকর্মীকে এখনো খুঁজে পাননি। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো অপেক্ষা করছি। আশা করছি উদ্ধারকর্মীরা তাদের খুঁজে পাবে।’


মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার ১২টা ৫০ মিনিটে মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় শহর মান্দালয়ের কাছে ৭ দশমিক ৭ তীব্রতার ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রায় ১১ মিনিট পর ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প–পরবর্তী কম্পন অনুভূত হয়। প্রতিবেশী বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, চীন ও ভিয়েতনামেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।



এই ভূমিকম্পে মিয়ানমারে এখন পর্যন্ত ২০ জন নিহত ও ২০০ জন আহত খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে নির্মাণাধীন ৩০ তলা একটি ভবন ধসে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এখনও ওই ভবনে ৪৩ জন শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন।


ইউএসজিএস আরও জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মাটির প্রায় ছয় মাইল গভীরে। কম গভীরতায় হওয়ায় কম্পন ভয়াবহভাবে অনুভূত হয়েছে। এরই মধ্যে বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অসংখ্য আহত মানুষ।


Post a Comment

Previous Post Next Post