সবার আগে ফাইনালে বরিশাল, সাফল্যের র'হ'স্য কী?

 




ড্রাফটের পর থেকেই কানাঘুষা ছিল, এবারের বিপিএলে সবচেয়ে শক্তিশালী দল ফরচুন বরিশাল। প্রথম ৫ ম্যাচের পারফরম্যান্সে তেমন কিছুর প্রতিফলন না দেখা গেলেও বরিশাল নিজেদের সেরাটা দেখিয়েছে শেষ ৭ ম্যাচে। এই ৭ ম্যাচের ৬টিই জিতেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। দাপট দেখিয়ে সবার আগে জায়গা করে নিয়েছে টুর্নামেন্টের ফাইনালে।


বরিশালের ধারাবাহিক সাফল্য অবশ্য এমনি এমনিই আসেনি। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ভারসাম্যপূর্ণ দল খেলিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির টিম ম্যানেজমেন্ট। অন্যান্য দলে বিদেশি খেলোয়াড় নিয়ে টানাপোড়েন দেখা গেলেও বরিশালের প্রায় সব খেলোয়াড়কেই পুরো টুর্নামেন্টের জন্য পেয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। উল্টো তারকা অনেক খেলোয়াড়কেও বেঞ্চে বসিয়ে রাখতে হয়েছে তাদের।


দেশীয় খেলোয়াড় কেনার ক্ষেত্রেও বেশ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে বরিশাল। অন্য অনেক দল পারফরম্যান্সের জন্য বিদেশি খেলোয়াড়দের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল হলেও বরিশালের দেশি ক্রিকেটাররা পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন। এছাড়া ম্যাচে একাদশ বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বরিশালের টিম ম্যানেজমেন্ট।

 

একাদশে তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের দারুণ এক মেলবন্ধন ঘটিয়েছে বরিশাল। আর সেই মেলবন্ধনেই এসেছে ফলাফল। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল এবং ডেভিড মালানের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা তরুণদের যেমন পরামর্শ দিয়ে পাশে থেকেছেন, তেমনি তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে দলের বিপদেও ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তরুণ ক্রিকেটার, যেমন তাওহীদ হৃদয়, রিশাদ হোসেন, এবাদত হোসেন এবং তানভীর ইসলামরাও নিজেদের জায়গা থেকে সেরা পারফর্ম করেছেন।

 

তবে কিছু খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা দিয়ে দলকে এই অবস্থায় নিয়েছেন। এই তালিকায় সবার ওপরে থাকবেন তামিম। বরিশালের দল গোছানো থেকে শুরু করে ফ্র্যাঞ্চাইজির অনেক দায়িত্বই নিজ পালন করেছেন তামিম। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়কের মাঠের অধিনায়কত্ব নিয়ে তো প্রশ্ন তোলার জায়গাই নেই। তবে ব্যাট হাতে তামিম যে এখনও দেশের অন্যতম সেরা, সেটার প্রমাণ তিনি দিয়েছেন এবারের বিপিএলে।

 

 

৩৫ পেরোনো তামিম এবারের বিপিএলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় আছেন সপ্তম স্থানে। ১৩ ম্যাচে ৩৫ গড়ে করেছেন ৩৫৯ রান। তামিমের স্ট্রাইকরেট নিয়ে বরাবরই অনেক প্রশ্ন উঠলেও এবার তিনি ব্যাট করেছেন ১২৩ স্ট্রাইক রেটে। এছাড়া ওপেনিংয়ে তামিমের দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলকে এগিয়ে দিয়েছে অনেক দিক থেকে।

 

তামিমের মতো অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছেন ডেভিড মালান। টুর্নামেন্টে মোট ৮টি ম্যাচ খেলেই ৩১৫ রান করে ফেলেছেন ডেভিড মালান। ইংলিশ ব্যাটারের ব্যাট থেকে রান এসেছেও দ্রুত, ১৫৭ স্ট্রাইক রেটে রান তুলেছেন তিনি। শুরুর দিকে দলকে বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দিতে ভালো ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

 

বয়সটা ৩৮ ছাড়ালেও মাহমুদউল্লাহও ব্যাট হেসেছে এবার দারুণভাবে। বেশিরভাগ ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সুযোগ না পেলেও যেসব ম্যাচে খেলেছেন, দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন। ১৫০ স্ট্রাইক রেটে ১৯৯ রান করে দলের মিডল অর্ডারে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।

 

তবে এবারের আসরে বরিশালকে সবচেয়ে বড় সার্ভিস দিয়েছেন ফাহিম আশরাফ। পাকিস্তানি এই অলরাউন্ডার ব্যাটিং এবং বোলিং, দুই ডিপার্টমেন্টেই ছিলেন অনবদ্য। ১১ ম্যাচে বল হাতে ২০ উইকেট নিয়ে এখনও টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক তিনি। ১৩.৯০ গড়ে বোলিং করেছেন ৭.১২ ইকোনমি রেটে। ৫ ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৩১ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ১০২ রান।

 

তাওহীদ হৃদয়, রিশাদ হোসেন এবং তানভীর ইসলামরাও নিজেদের ছোট-বড় অবদানে দলকে সাহায্য করেছেন। আর তাতেই এতটা অপ্রতিরোধ্য বরিশাল। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ফাইনালে খুলনা অথবা চিটাগংয়ের বিপক্ষে খেলবে বরিশাল।


Post a Comment

Previous Post Next Post